আরও দেখুন
বুধবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য়ের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইউরোর উপর থেকে চাপ কিছুটা কমেছে। গত পরশুদিন, জার্মানিতে ডিসেম্বরের মূল্যস্ফীতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে দেখা গেছে যে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) বার্ষিক ভিত্তিতে ১.৮%-এ নেমে এসেছে, যেখানে আগের মাসে এটি ২.৩% ছিল। আমরা তখনই বলেছিলাম—এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার সময় এখনো হয়নি, বরং পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো হবে। পরদিনই সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী ইউরোজোনের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ২%-এ রয়েছে, যা পূর্বাভাসের সঙ্গে পুরোপুরিভাবে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল।
মুদ্রাস্ফীতির হার মন্থর হলে সেটি ইউরোর জন্য কেন ঝুঁকিপূর্ণ? বিষয়টি খুবই সহজ। যদি মূল্যস্ফীতির হার ২%-এর নিচে নেমে যেতে থাকে, তাহলে এটি ইসিবিকে (ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক) আবারও আর্থিক নীতিমালার নমনীয়করণ শুরু করার জন্য যৌক্তিক কারণ দিতে পারে। মনে করিয়ে দেওয়া ভালো যে, পূর্বে ইসিবির আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির কিছু সদস্য ধারণা দিয়েছিলেন যে ২০২৬ সালের মধ্যে হয়তো একাধিকবার মূল সুদের হার বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কিন্তু যদি মূল্যস্ফীতির হ্রাস ইসিবির লক্ষ্যমাত্রার নিচে নেমে যায়, তাহলে আর্থিক নীতিমালা কঠোর কোনো প্রশ্নই উঠবে না। এই যুক্তিসঙ্গত বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার মার্কেটে ইউরো বিক্রির প্রবণতা দেখা দেয়। তবে বুধবারে দেখা গেছে—সেই সব সংশয় ভিত্তিহীন ছিল: ইউরোপীয় ইউনিয়নে মূল্যস্ফীতির হার এখনো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই রয়েছে।
অতএব, EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের ক্ষেত্রে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার, বেকারত্ব এবং মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনই মূল অগ্রাধিকার পাচ্ছে। কারণ এই সমস্ত প্রতিবেদনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী দিনগুলোতে ফেডারেল রিজার্ভের আর্থিক নীতিমালা কোন পথে এগোবে। বুধবারের মধ্যে এই সূচকগুলোর উপর ভিত্তি করে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তবে আমাদের মতে, সঠিক বিশ্লেষণের জন্য শুক্রবার প্রকাশিতব্য নন-ফার্ম পেরোল এবং বেকারত্ব হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বুধবার ADP, JOLTs এবং ISM থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, এবং এগুলোর ফলাফল মার্কেটে কিছুটা প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করেছে। তবে যেহেতু এই ধরণের স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণে তেমন প্রভাব বিস্তার করে না, তাই এগুলোর প্রভাবে দৈনিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের বর্তমান রেঞ্জ-ভিত্তিক মুভমেন্টে বড় কোনো পরিবর্তনের আশা করা যাচ্ছে না।
হ্যাঁ, EUR/USD পেয়ারের মূল্য এখনো 1.1400 এবং 1.1830 লেভেলের মধ্যকার রেঞ্জে অবস্থান করছে। এই পেয়ারের মূল্য বিগত ছয় মাস ধরেই এই রেঞ্জে অবস্থান করছে। এই পেয়ারের মূল্য ঠিক কতদিন এই রেঞ্জে থাকবে, তা বলা কঠিন। বছরের শুরুটা বেশ অস্থির ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু এরপরের দিনগুলোতে দেখা গেল, মার্কেটের ট্রেডাররা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়নি—যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদক নিয়ন্ত্রণের ছদ্মাবরণে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্র দখল করা।
মার্কেটের ট্রেডাররা এটিও বিশ্বাস করছে না যে, ট্রাম্প কিউবা, কলম্বিয়া বা ডেনমার্কের অধীনে থাকা গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালাবে।
ফলে, ট্রাম্পের অভিযানটি বাহ্যিকভাবে যতটা নাটকীয় ছিল, বাস্তবে এর ভবিষ্যৎ সম্ভবত "ট্রাম্প সবসময় শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যান" সূত্র অনুযায়ীই চলবে। অনুমান করা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছিলেন—প্রথমত, ভেনেজুয়েলায় মাদুরো সরকারের পতন নিশ্চিত করা, এবং দ্বিতীয়ত, বিশ্বের সামনে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পোক্ত করা। প্রথম লক্ষ্যটি হয়তো অনেকাংশে সফল হয়েছে, কিন্তু দ্বিতীয় লক্ষ্য এখন পর্যন্ত "গড়পড়তা"র বেশি কিছু অর্জন করতে পারেনি।
৭ জানুয়ারি পর্যন্ত গত পাঁচ দিনের ট্রেডিংয়ে EUR/USD কারেন্সি মূল্যের পেয়ারের গড় ভোলাটিলিটি হচ্ছে ৫০ পয়েন্ট, যা "মাঝারি-নিম্ন" হিসেবে বিবেচনা করা যায়। বৃহস্পতিবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1640 এবং 1.1740 লেভেলের মধ্যে মুভমেন্ট করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। সিনিয়র লিনিয়ার রিগ্রেশন চ্যানেলটি এখনো ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে, তবে বাস্তবে দৈনিক টাইমফ্রেমে রেঞ্জ-ভিত্তিক মুভমেন্টই অব্যাহত রয়েছে। গত ডিসেম্বরে CCI ইনডিকেটরটি ওভারবট জোনে প্রবেশ করেছিল, কিন্তু ইতোমধ্যেই একবার সামান্য রিট্রেসমেন্ট বা কারেকশন দেখা গেছে। গত সপ্তাহে একটি বুলিশ ডাইভারজেন্স গঠিত হয়েছে, যা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার ইঙ্গিত প্রদান করে।
নিকটতম সাপোর্ট লেভেল:
S1 – 1.1658S2 – 1.1597S3 – 1.1536
নিকটতম রেজিস্ট্যান্স লেভেল:
R1 – 1.1719R2 – 1.1780R3 – 1.1841
EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য এখনো মুভিং অ্যাভারেজ লাইনের নিচে অবস্থান করছে, তবে হায়ার টাইমফ্রেমে (উদাহরণস্বরূপ, ৪-ঘণ্টা, সাপ্তাহিক চার্টে) এখনও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিদ্যমান রয়েছে। অন্যদিকে, দৈনিক টাইমফ্রেমে এখন টানা ছয় মাস ধরে রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট চলমান রয়েছে। বৈশ্বিক মৌলিক প্রেক্ষাপট এখনও মার্কেটে জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করছে, এবং মার্কিন ডলারের জন্য তা এখনও নেতিবাচকই রয়ে গেছে। গত ছয় মাসে মার্কিন ডলারের মূল্য মাঝে মাঝে কিছুটা দুর্বল ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট দেখালেও, তা কেবলমাত্র সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। দীর্ঘমেয়াদে ডলারের মূল্য বৃদ্ধির জন্য এখনও কোনো শক্তিশালী মৌলিক ভিত্তি নেই। যখন এই পেয়ারের মূল্য মুভিং অ্যাভারেজ লাইনের নিচে অবস্থান করে, তখন টেকনিকাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী মূল্যের 1.1658 এবং 1.1640-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য মুভিং অ্যাভারেজ লাইনের উপরে চলে যায়, তাহলে লং পজিশন প্রাসঙ্গিক থাকবে—যেখানে মূল্যের 1.1830-এর (যা দৈনিক চার্টে দৃশ্যমান রেঞ্জের উপরের সীমা) দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য ইতোমধ্যেই একবার এখানে পৌঁছেছে। এখন এই দীর্ঘমেয়াদি রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সমাপ্তি ঘটে একটি স্থায়ী প্রবণতা শুরু হওয়া দরকার।
চিত্রের ব্যাখা: