আরও দেখুন
বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট
বুধবার পুরো দিনজুড়ে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছিল, যদিও সামগ্রিকভাবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বেশ কিছুটা বিভ্রান্তিকর ছিল। স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, গতকাল ইউরো/ডলার পেয়ারে কার্যত মূল্যের কোনো মুভমেন্ট লক্ষ্য করা যায়নি। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো শক্তিশালী অনুঘটক ছিল না—না ঊর্ধ্বমুখী এবং না নিম্নমুখী মুভমেন্টের জন্য। যুক্তরাজ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়নি বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল পরস্পরবিরোধী ছিল। যেখানে ISM পরিষেবা খাতের PMI সূচক ইতিবাচক ফলাফল প্রদর্শন করেছে এবং উৎপাদন খাতভিত্তিক PMI-এর দুর্বল ফলাফলের প্রেক্ষিতে ডলারের উপর চাপ কমিয়েছে, সেখানে অপরদিকে ADP বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান এবং JOLTs চাকরির শূন্যপদ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল পূর্বাভাসের চেয়ে দুর্বল ছিল।তবে, ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে যুক্তিহীন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না, কারণ ADP ও JOLTs থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নন–ফার্ম পেরোল ও বেকারত্ব হার সংক্রান্ত তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ, মার্কেটের অধিকাংশ ট্রেডার ইতোমধ্যে তাদের দৃষ্টি শুক্রবার প্রকাশিতব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের দিকে স্থানান্তর করেছে এবং ISM থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতেই ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট
৫-মিনিটের টাইমফ্রেম অনুযায়ী, বুধবার নতুন করে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় 1.3529–1.3543 লেভেল থেকে এই পেয়ারের মূল্য রিবাউন্ড করে, যার ফলে নতুন ট্রেডারদের জন্য শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি হয়। বুধবার এই পেয়ারের দরপতন অব্যাহত থাকে এবং বৃহস্পতিবার সকালেই এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 লেভেলে পৌঁছায়—মাত্র ২ পয়েন্টের ডেভিয়েশনের সঙ্গে। ফলে ট্রেডটি প্রায় দুই দিন ধরে ওপেন রাখতে হলেও শেষ পর্যন্ত এটি লাভজনক ছিল।
বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্য বর্তমানে ট্রেন্ডলাইনের নিচের দিকে কনসোলিডেট করেছে; তবে এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিয়ারিশ প্রবণতা গঠিত হয়নি। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে দৃঢ় কোনো কারণ না থাকায়, আমরা শুধুমাত্র এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টেরই প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিকভাবে, আমরা এখনও মনে করি যে, ২০২৫ সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যেই GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.4000 লেভেলে পৌঁছাতে পারে।
বৃহস্পতিবার, নতুন ট্রেডাররা নতুন পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। এই পেয়ারের মূল্য যদি 1.3437–1.3446 লেভেল থেকে রিবাউন্ড করে, তাহলে মূল্যের 1.3529–1.3543-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 লেভেল দৃঢ়ভাবে ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়, তাহলে নতুন সেল অর্ডার বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে বর্তমানে ট্রেডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লেভেলগুলো হলো: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3437–1.3446, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590, 1.3643–1.3652, 1.3682, 1.3763।
আজ বৃহস্পতিবারও যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র প্রাথমিক বেকারভাতা আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হওয়ায় মার্কেটে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী
চার্টে কী কী রয়েছে
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।