empty
 
 
08.01.2026 09:29 AM
৮ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা

GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

বুধবার পুরো দিনজুড়ে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছিল, যদিও সামগ্রিকভাবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বেশ কিছুটা বিভ্রান্তিকর ছিল। স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, গতকাল ইউরো/ডলার পেয়ারে কার্যত মূল্যের কোনো মুভমেন্ট লক্ষ্য করা যায়নি। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রেও তেমন কোনো শক্তিশালী অনুঘটক ছিল না—না ঊর্ধ্বমুখী এবং না নিম্নমুখী মুভমেন্টের জন্য। যুক্তরাজ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়নি বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল পরস্পরবিরোধী ছিল। যেখানে ISM পরিষেবা খাতের PMI সূচক ইতিবাচক ফলাফল প্রদর্শন করেছে এবং উৎপাদন খাতভিত্তিক PMI-এর দুর্বল ফলাফলের প্রেক্ষিতে ডলারের উপর চাপ কমিয়েছে, সেখানে অপরদিকে ADP বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান এবং JOLTs চাকরির শূন্যপদ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল পূর্বাভাসের চেয়ে দুর্বল ছিল।তবে, ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে যুক্তিহীন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না, কারণ ADP ও JOLTs থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নন–ফার্ম পেরোল ও বেকারত্ব হার সংক্রান্ত তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ। এর অর্থ, মার্কেটের অধিকাংশ ট্রেডার ইতোমধ্যে তাদের দৃষ্টি শুক্রবার প্রকাশিতব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের দিকে স্থানান্তর করেছে এবং ISM থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতেই ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

৫-মিনিটের টাইমফ্রেম অনুযায়ী, বুধবার নতুন করে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় 1.3529–1.3543 লেভেল থেকে এই পেয়ারের মূল্য রিবাউন্ড করে, যার ফলে নতুন ট্রেডারদের জন্য শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি হয়। বুধবার এই পেয়ারের দরপতন অব্যাহত থাকে এবং বৃহস্পতিবার সকালেই এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 লেভেলে পৌঁছায়—মাত্র ২ পয়েন্টের ডেভিয়েশনের সঙ্গে। ফলে ট্রেডটি প্রায় দুই দিন ধরে ওপেন রাখতে হলেও শেষ পর্যন্ত এটি লাভজনক ছিল।

বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্য বর্তমানে ট্রেন্ডলাইনের নিচের দিকে কনসোলিডেট করেছে; তবে এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিয়ারিশ প্রবণতা গঠিত হয়নি। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে দৃঢ় কোনো কারণ না থাকায়, আমরা শুধুমাত্র এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টেরই প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিকভাবে, আমরা এখনও মনে করি যে, ২০২৫ সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যেই GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.4000 লেভেলে পৌঁছাতে পারে।

বৃহস্পতিবার, নতুন ট্রেডাররা নতুন পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। এই পেয়ারের মূল্য যদি 1.3437–1.3446 লেভেল থেকে রিবাউন্ড করে, তাহলে মূল্যের 1.3529–1.3543-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 লেভেল দৃঢ়ভাবে ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়, তাহলে নতুন সেল অর্ডার বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে বর্তমানে ট্রেডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লেভেলগুলো হলো: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3437–1.3446, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590, 1.3643–1.3652, 1.3682, 1.3763।

আজ বৃহস্পতিবারও যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র প্রাথমিক বেকারভাতা আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হওয়ায় মার্কেটে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.