empty
 
 
18.05.2026 07:23 AM
১৮ মে কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবারও EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল এবং ধারাবাহিকভাবে চতুর্থ দিনের মতো দরপতন হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইউরোর মূল্যের কেবলমাত্র নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। আমাদের মৌলিক বিশ্লেষণে আমরা সেই সকল ঘটনা বিশ্লেষণ করেছি যেগুলো এ ধরনের মুভমেন্ট ঘটাতে পারত এবং এই উপসংহারে পৌঁছেছি যে মূলত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মার্কেটের ট্রেডাররা প্রায় এক মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার আশায় মার্কিন ডলার বিক্রি করছিল, কিন্তু এক মাস পার হওয়ার পরও দেখা যাচ্ছে যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের নেই এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দূরত্ব ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের আশাবাদ ম্লান হয়েছে গেছে, এবং ট্রেডাররা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে আবারও নিরাপদ বিনিয়োগের খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাসেট ও কারেন্সিতে বিনিয়োগ করা শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিই আমরা দেখতে পাচ্ছি। অবশ্য এটাও অস্বীকার করা যায় না যে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি অন্তত একবার কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, যা মার্কিন ডলারকে বাড়তি সহায়তা প্রদান করছে। টেকনিক্যাল চার্টে এখনও একটি আপওয়ার্ড ট্রেন্ড লাইন বিদ্যমান, তবে ট্রেডাররা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত সমাধানের ব্যাপারে শীঘ্রই যদি নতুন কোনো "আশার আলো" দেখতে না পায়, তাহলে এই পেয়ারের আরও তীব্র দরপতনের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি যথেষ্ট কার্যকর ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়া ব্রেক করে নিচের দিকে যায় এবং মার্কিন সেশনের শুরু হওয়ার ঠিক আগে এই এরিয়া থেকে বিপরীতমুখী হয়। ফলে নতুন ট্রেডাররা দুটি সেল ট্রেড ওপেন করতে পারতেন, যার একটি থেকে প্রায় 20 পিপস লাভ হয়েছে।

সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় আছে, এবং কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইউরোর মূল্যের কারেকশন পরিলক্ষিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ফের তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় পুনরায় মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়েছে, তবু আমরা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির আশা করছি না। ট্রেডাররা ক্রমাগত মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে চলেছে।

সোমবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়ার কাছ থেকে আবার বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1584-1.1591 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1591 এরিয়ার কাছ থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1666 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908। সোমবার ইউরোজোন ও যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, এবং সপ্তাহান্তেও কোনো উল্লেখযোগ্য ভূ-রাজনৈতিক খবর আসেনি। ফলে আজ "সোমবার" মার্কেটে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্টের সম্ভাবনা নেই।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.