আরও দেখুন
শুক্রবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের প্রধানত সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে এবং অস্থিরতার মাত্রাও বেশ কম ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি বা কোনো ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টও ছিল না, এমনকি ভূ-রাজনৈতিক সংবাদও অনুপস্থিত ছিল (বিভিন্ন গুজব ও অপ্রমাণিত তথ্য বাদে)। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মতোই সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঘটনা সম্ভবত গত সপ্তাহান্তে ঘটে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে সমঝোতামূলক চুক্তি প্রায় 100% চূড়ান্ত হয়েছে এবং এতে করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় অবরোধমুক্ত হতে পারে। এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে উভয় পক্ষ বিস্তৃত শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আরও 30 দিন সময় পাবে, এবং উভয় পক্ষ 60 দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত তেহরান এখনও এই তথ্য নিশ্চিত করেনি, তবে ট্রেডাররা ধারণা করছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুনরায় এটি নিশ্চিত করবেন। তাই সোমবার মার্কেটে ট্রেডিং সেশন শুরু হওয়ার পর আমরা এই পেয়ারের মূল্য তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখেছি — কারণ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের প্রতি চাহিদা কমে। মনে হচ্ছে চলতি সপ্তাহের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আবারও মার্কেটের উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করবে। যদি ট্রাম্পের বিবৃতি সত্যি হয়, তাহলে মার্কিন ডলারের দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। মার্কিন ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1591 এরিয়া থেকে বাউন্স করায় নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পেরেছিলেন। দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য প্রায় 15-20 পিপস বেড়ে যায়, যা ট্রেডাররা সহজেই মুনাফা হিসেবে অর্জন করতে পারতেন। উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধির পরও আমরা সোমবারের জন্য ট্রেডগুলো হোল্ড করে রাখার পরামর্শ দেব না।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে পুরো এক মাস ধরে ইউরোর মূল্যের কারেকশন অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কায় পুনরায় মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল; তবু আমরা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলারের উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধির আশা করছি না। বেশিরভাগ ট্রেডার মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে চলছে, আর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাবে EUR/USD পেয়ারের মূল্য একবার বাড়ছে তো আবার দরপতনের শিকার হচ্ছে।
সোমবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1584-1.1591 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, এই পেয়ারের মূল্য 1.1655-1.1666 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করলে নতুন লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, এবং 1.1899-1.1908। শুক্রবার ইউরোজোনে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; তবে ট্রেডাররা ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ব্যাপারে নতুন তথ্য ও সপ্তাহান্তে ট্রাম্প যে বিবৃতি দিয়েছেন সেটির বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।