আরও দেখুন
মঙ্গলবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের তেমন কোনো আকর্ষণীয় মুভমেন্ট দেখা যায়নি। দিনেরবেলা কোনো উল্লেখযোগ্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষপটও আপাতত শান্ত রয়েছে—তেহরান ও ওয়াশিংটন আপাতত একটি অস্থায়ী চুক্তির শর্তে মতৈক্যে পৌঁছেছে, এবং বিশ্ববাসী এখন চুক্তি স্বাক্ষর ও হরমুজ প্রণালী খোলার অপেক্ষায় রয়েছে। তবুও খুব একটা আশাবাদ দেখা যাচ্ছে না। ট্রেডাররা জানতে পেরেছে যে হরমুজ প্রণালী খোলা হলেও সেখান দিয়ে জাহজ চলাচলের মাত্রা সহজেই যুদ্ধ পূর্ববর্তী স্তরে ফিরবে না, এবং তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অমীমাংসিত অনেক বিষয় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফলে কেউই তৎক্ষণাত মার্কিন ডলার বিক্রির জন্য তাড়াহুড়ো করছে না, এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্যু এক মাসের অধিক সময় ধরে সাইডওয়েজ চ্যানেলে অবস্থান করছে, যা উপরে দেওয়া চিত্রে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। আজ যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। সন্ধ্যায় ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় একটি ইভেন্ট।
মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি বাই ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে, যেখানে সামান্য মার্জিন অব এরর ছিল (3 পিপস)। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং দিনের শেষে মূল্য 25-30 পিপস পর্যন্ত বেড়েছে। নতুন ট্রেডাররা তুলনামূলকভাবে সহজেই এই 25-30 পিপস উপার্জন করতে পারতেন, কারণ সারাদিন ধরে প্রায় একমুখী মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে টানা দুই মাস ধরে GBP/USD পেয়ারের ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে, কারণ এখনও উচ্চমাত্রার ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষ আশাব্যঞ্জক নয়। মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। তবে ট্রেডাররা বর্তমানে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে কোনো তাড়াহুড়ো করছে না, কারণ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বহু ইস্যু অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার ওপর কনসলিডেট করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। বুধবার যুক্তরাজ্যে মে মাসের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেডের বৈঠকের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। আমরা ফেডের মূল সুদের হারে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছি না, কিন্তু ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বিবৃতি কারেন্সি মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।