আরও দেখুন
সোমবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের দুর্বল উর্ধ্বমুখী কারেকশন অব্যাহত ছিল, কিন্তু এই পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ডলাইনের নিচেই অবস্থান করায় নিচমুখী প্রবণতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। গত দুইমাস ধরেই একইরকম পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এত দীর্ঘ দরপতনের পরও হায়ার টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অটুট রয়েছে এবং আমরা মার্কিন ডলারের দুই মাসব্যাপী মূল্য বৃদ্ধির ন্যায্যতা সম্পর্কে সন্দিহান। তবে মার্কেটকে জোর করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না — অযৌক্তিক মুভমেন্টও ঘটে, আর এখন এমনই একটি সময়। গতকাল ক্রিস্টিন লাগার্ড মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি খুবই সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেছেন—সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ যুদ্ধবিরতির পরও নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতির হার ইসিবির লক্ষ্যমাত্রার উপরে অবস্থান করছে, তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটিকে লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে যা করা দরকার তাই করবে। স্বাভাবিকভাবেই এই তথ্যগুলো ট্রেডাররা উপেক্ষা করেছে; মোটকথা ট্রেডাররা ইউরোর পক্ষে থাকা ইতিবাচক কারণগুলোর দিকে তেমন কোনো মনোযোগ দেয়নি।
সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। সারাদিন এই পেয়ারের মূল্যের প্রায় 50 পিপস অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে সোমবার বেশ নিস্তরঙ্গ ছিল—ট্রেডাররা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা লাগার্ডের বক্তৃতা কোনোদিকেই তেমন কোনো মনোযোগ দেয়নি। আমরা মার্কিন ডলারের মূল্যের সাম্প্রতিক উত্থানকে স্পেকুলেটিভ মুভমেন্ট হিসেবে বিবেচনা করছি।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পরেও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ট্রেডারদের কাছে মার্কিন ডলার ক্রয়ের কারণ কমে গেছে। তবুও ট্রেডাররা এই বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে ইউরোর জন্য ইতিবাচক প্রায় সকল কারণ উপেক্ষা করছে। সুতরাং বর্তমানে কোনো স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1455-1.1474 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1354-1.1363 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1354-1.1363 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1455-1.1474 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আজ আবারও এই পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে, যা বিবেচনায় রাখা উচিত।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1292, 1.1354-1.1363, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, এবং 1.1830-1.1837। মঙ্গলবার জার্মানিতে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতির সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল সম্ভবত মার্কেটে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। একই কথা যুক্তরাষ্ট্রের JOLTs প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সামগ্রিকভাবে ট্রেডাররা এখনও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোর দিকে তেমন কোনো মনোযোগ দিচ্ছে না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।