আরও দেখুন
বুধবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের বেশ শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের প্রভাবেও এমন পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে। আমরা নিশ্চিত নই যে মার্কেটে সৃষ্ট এই জোরালো প্রতিক্রিয়া বিশেষভাবে মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের কারণেই হয়েছিল, তবে উক্ত প্রতিবেদনের প্রভাবে ব্রিটিশ পাউন্ড ক্রয়ের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে 2.9%-এ পৌঁছেছে, যেখানে মূল মুদ্রাস্ফীতির হার 2.6%-এ (পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি) ছিল। এই ফলাফল খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলেও তা ব্রিটিশ পাউন্ড ক্রয়ের পক্ষে সমর্থন জুগিয়েছে, কারণ ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এখন আগের চেয়ে আরও বেশি হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। তবে, ভোক্তা মূল্য সূচকের ফলাফলের প্রভাব ছাড়াও ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং থাকা উচিত। আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, বর্তমানে প্রায় সকল কারণই মার্কিন ডলারের দরপতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। হায়ার টাইমফ্রেমগুলোতে স্থানীয় এবং বৈশ্বিক উভয় পর্যায়েই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই বিদ্যমান রয়েছে।
বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি দুর্বল বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, এবং সেগুলো কাজে লাগিয়ে নতুন ট্রেডাররা মুনাফাও করতে পারত। দুর্ভাগ্যবশত, প্রথম বাই সিগন্যালটি পরিলক্ষিত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার একেবারে শুরুতে গঠিত হয়নি। তবে, এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 রেঞ্জ ব্রেক করে উপরে উঠে যাওয়ায় লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি হয়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3631-1.3641 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করায় লং পজিশন ক্লোজ করে শর্ট পজিশন ওপেন করা হয়। পরবর্তীতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করায় আবার লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া গিয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কিন ডলারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। শুধুমাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে আপওয়ার্ড চ্যানেলের নিচে এই পেয়ারের মূল্য়ের কনসলিডেশন হলে এই পেয়ারের দরপতনের প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3631-1.3641 এবং 1.3695-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই সারাদিন ধরে মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো তেমন কিছুই থাকবে না। তবে, আজও ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ট্রেডারদের সম্পূর্ণভাবে টেকনিক্যাল চিত্রে বিশ্লেষণের ওপরই নির্ভর করতে হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।