আরও দেখুন
সোমবারও GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছিল, তবে ইউরোর তুলনায় পাউন্ড বড় ধরনের দরপতন এড়াতে সক্ষম হয়েছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের ISM সার্ভিস অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্স প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু ট্রেডারদের কাছে এটি দিনের প্রধান প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচিত হয়নি। ISM সূচকের ফলাফল পূর্বাভাসের চেয়ে কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমেছে। সমস্যা হলো, মার্কিন ডলারের বড় ধরনের দরপতনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে এটির মূল্য খুব সামান্যই কমছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার প্রকাশিত নন-ফার্ম পেরোল এবং বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের প্রভাবে কারণে মার্কিন ডলারের ব্যাপক দরপতন হওয়া উচিত ছিল; কারণ প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল হতাশাজনক ছিল এবং এর ফলে অক্টোবরে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা কার্যত হ্রাস পেয়েছিল। শ্রমবাজার পরিস্থিতির দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে এবং বেকারত্ব বাড়লে, ফেডারেল রিজার্ভ এমনকি ডিসেম্বরে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার পরিকল্পনা থেকেও সরে আসতে পারে। অথচ ট্রেডাররা এখনো এই বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি। ইউরোর তুলনায় পাউন্ড অধিক স্থিতিশীলতা দেখালেও, সামগ্রিকভাবে এটির মূল্যও ধীরে ধীরে নিচের দিকেই যাচ্ছে।
সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। এই পেয়ারের মূল্য দুবার 1.3175–1.3180 এরিয়ার কাছাকাছি পৌঁছালেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি—এমনকি সামান্য মুভমেন্টও নয়। ট্রেডারদের কাছে পজিশন ওপেন করার মতো যৌক্তিক কোনো কারণ ছিল না।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত, ফলে মার্কিন ডলারের সার্বিক মৌলিক প্রেক্ষাপটের উন্নতি ঘটেছে। তবে আড়াই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ট্রেডাররা শুধুমাত্র মার্কিন ডলার ক্রয় করেই যাচ্ছে। অবশ্য ফেডের আর্থিক নীতিমালাই মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির একমাত্র কারণ কিনা এ বিষয়ে আমাদের ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। তাই, মার্কেটে পরিলক্ষিত বর্তমান মুভমেন্টকে আমরা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করছি।
মঙ্গলবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3259–1.3267 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3175–1.3180-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3175–1.3180 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3259–1.3267-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রে কেবল ADP থেকে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা আমরা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি না। তাই আজ মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা দেখা যেতে পারে; তবে মনে রাখবেন, মার্কেটে সামগ্রিকভাবে এখনও মার্কিন ডলার ক্রয়ের প্রবণতা বজায় রয়েছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।