empty
07.10.2026 10:41 AM
তেহরান ট্রেডারদের স্বস্তিতে থাকতে দেবে না

জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে: মঙ্গলবার বেশ ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি $102-এর দিকে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডব্লিউটিআই গ্রেডের তেলের দর $90-এর উপরে অবস্থান করছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ বাড়লেও জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনাও বাড়ছে।

This image is no longer relevant

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জাহাজে হামলার ঘটনা সত্যিই বেড়েছে। ইউকেএমটিও-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালীতে অন্তত নয়টি হামলার ঘটনা ঘটেছে—যা সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে রেকর্ডকৃত মোট হামলার সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জে. ডি. ভ্যান্স সম্প্রতি বলেছেন যে, তেহরান কিছু জাহাজে হামলা চালালেও তা তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার মতো যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, ওয়াশিংটন চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রেডারদের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো—চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ও ঝুঁকির বিষয়টি পাশাপাশি অবস্থান করছে এবং তেলের মূল্য এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সীমিত পরিসরের মধ্যেই ওঠানামা করছে।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ছে। শেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ যুদ্ধের আগের মাত্রার প্রায় ৮০ শতাংশে ফিরে এসেছে; অন্যদিকে ভিটোল-এর প্রধান জানিয়েছেন, গত সাত থেকে দশ দিনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় 12 মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে।

তবে বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত কমে আসছে। এই শিল্পখাতের শীর্ষস্থানীয়রা সতর্ক করে বলছেন যে, যুদ্ধের প্রভাব সামাল দেওয়ার মতো বিকল্প ব্যবস্থা ফুরিয়ে আসছে এবং বিশ্বব্যাপী মজুত কমে যাচ্ছে; পাশাপাশি ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের দামও চড়া রয়ে গেছে।

অদূর ভবিষ্যতে অনুষ্ঠেয় আইইএ-এর এক বৈঠকে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিশ্ববাজারে জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হবে। উক্ত খাত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই বৈঠকে এই কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা স্পষ্ট করা হবে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২.১ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে এবং গ্যাসোলিনের মজুদ হ্রাস পেলেও ডিস্টিলেটের মজুদ বেড়েছে; আজ দিনের শেষার্ধে এ সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য প্রকাশিত হবে।

নীতিগত পদক্ষেপের কারণেও জ্বালানির তেলের মূল্যের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির খরচ কমাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্যাসোলিনের উপর আরোপিত ফেডারেল কর স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এছাড়া, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তিনি ডিজেল ব্যবহারের নিয়মকানুন শিথিল করেছেন, যাতে পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা এমন জ্বালানি কিনতে পারেন যা সাধারণত কৃষিকাজের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তবে পাম্পে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে এসব পদক্ষেপ খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না; কারণ সেপ্টেম্বরে খুচরা বাজারে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় $6-এর কাছাকাছি ছিল।

আমার মতে, আগামী সেশনগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দর মোটামুটি $99–$103-এর রেঞ্জের মধ্যে ওঠানামা করবে; আর আজ রাতে প্রকাশিতব্য ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং জ্বালানি মজুত সংক্রান্ত প্রতিবেদনের উপর বিশেষ নজর রাখতে হবে।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $92-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $96-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $100 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $89-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $87 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $83 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.