আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অবশ্য, টানা দুই মাস ধরে ইউরোর দরপতনের প্রেক্ষাপটে এটিকে "শক্তিশালী" উত্থান বলা কঠিন; তবুও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইউরোর এই মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বেশ লক্ষণীয়। উল্লেখ্য যে, গতকাল ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকে আর্থিক নীতিমালার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড ভবিষ্যতে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি—এটি এমন একটি বিষয় যা ট্রেডাররা গত কয়েক মাস ধরেই উপেক্ষা করে আসছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রতিবেদনের ফলাফলও প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে এবং পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার সূচকটির ফলাফল পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল, যা প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এই পরিস্থিতিতে, গতকাল মার্কিন ডলারের মূল্য আরও বৃদ্ধি পেলে তা মোটেও আশ্চর্যজনক হতো না। অথচ ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। কোনো জোরালো কারণ ছাড়াই গত দুই মাস ধরে ইউরোর দরপতন হয়েছে এবং ট্রেডাররা কার্যত যেকোনো ইতিবাচক খবরকেই উপেক্ষা করে এসেছে। বর্তমানে এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য মোটামুটি 1.1114 থেকে 1.1267-এর মধ্যে অবস্থিত একটি সাইডওয়েজ রেঞ্জে অবস্থান করছে, তবে ইউরোর মূল্যের এই উত্থানকে নতুন একটি প্রবণতা শুরুর প্রাথমিক ধাপ হিসেবে মনে হতে পারে।
বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ফেডারেল রিজার্ভ এবং ইসিবির বৈঠকের ফলাফলের প্রভাবে সারাদিনই এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতা অব্যাহত ছিল। আমাদের মতে, ইসিবির বৈঠকের ঠিক আগে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি ও মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশের আগে প্রাপ্ত ট্রেডিং সিগন্যাল কাজে লাগানো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই নতুন ট্রেডারদের কাছে মার্কেটের পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার পর, কেবল সর্বশেষ বাই সিগন্যালটি কাজে লাগানোই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখনও EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ প্রবণতার রূপ নিয়েছে, যদিও সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যেই মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে; সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোর মূল্যের কার্যকর কোনো কারেকশন হতে দেখা যায়নি, তবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক মাসের সার্বিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, টানা এক মাস ধরে এভাবে ইউরোর দরপতন হওয়ার কথা ছিল না। বর্তমানে মার্কিন ডলার ওভারবট কন্ডিশনে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং ইউরোর পক্ষে বিদ্যমান অনেক ইতিবাচক মৌলিক বিষয়কে উপেক্ষা করা হয়েছে।
শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1104–1.1114-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1198–1.1218 এরিয়ার উপর থাকা অবস্থায় সেশন ক্লোজ হলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1267–1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1011, 1.1104–1.1114, 1.1198–1.1218, 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665। শুক্রবার জার্মানিতে তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; ইউরোজোনেও জিডিপি ও বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে আজ কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। ইউরোপে প্রকাশিতব্য এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।