আরও দেখুন
সোমবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হলেও দিনের দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা দরপতন ঘটে। সামগ্রিকভাবে, প্রতি ঘণ্টার টাইমফ্রেমে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, তাই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যে মুভমেন্ট দেখা গেছে, তা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সূচকের ফলাফল পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি আসায় ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের উত্থান বাধাগ্রস্ত হতে পারত। তবে, কেবল একটি সূচক মার্কেটের সামগ্রিক মনোভাব বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। ইউরোর তুলনায় পাউন্ড অনেক বেশি টেকনিক্যালভাবে সঙ্গতিপূর্ণ এবং অনুমানযোগ্য উপায়ে ট্রেড করছে; যেখানে ইউরোর মূল্য বর্তমানে তলানিতে রয়েছে এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও খুব কম। ট্রেডাররা এখন ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মুদ্রানীতি কঠোর করার পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন, যে সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হতে পারে। পাশাপাশি, তারা মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে আছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা জয় পেতে পারে। সব মিলিয়ে, এই সপ্তাহটি বেশ আকর্ষণীয় এবং অস্থির হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
সোমবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি কার্যকর বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, তবে ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.3456–1.3476-এর নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর ঠিক আগেই এই মুভমেন্ট থেমে যায়। দিনের শেষভাগে পাউন্ডের দরপতন ঘটে, তবুও নতুন ট্রেডাররা তাদের লং পজিশন সামান্য মুনাফার সাথে ক্লোজ করতে পেরেছিলেন।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে এবং এখন ইউরোর মূল্যের তুলনায় পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হওয়ার দৃঢ় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ চার্টের টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন ডলারের ওভারবট কন্ডিশন—সবকিছুই GBP/USD-এর মূল্যবৃদ্ধির অনুকূলে রয়েছে।
মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর এই পেয়ারের মূল্য আবারও 1.3380–1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456–1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3175–1.3180, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এই সপ্তাহে শ্রমবাজার বিষয়ক প্রথম প্রতিবেদন—JOLTS কর্মসংস্থানের সুযোগ সংক্রান্ত প্রতিবেদন—প্রকাশিত হবে। তবে, আমরা আশা করছি না যে এই প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কেটে খুব জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে, কারণ সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইভেন্ট অপেক্ষা করছে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।