আরও দেখুন
মঙ্গলবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। নতুন ট্রেডাররা মূলত কেবল মার্কিন কর্মসংস্থানের সুযোগ সংক্রান্ত JOLTS থেকে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনের দিকে দৃষ্টিপাত করতে পারে। তবে, এই প্রতিবেদনের প্রতিও সম্ভবত কোনো গুরুত্ব দেওয়া হবে না (প্রায় ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি উপেক্ষা করা হবে)। মনে রাখা প্রয়োজন যে, JOLTS থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুই মাস পুরোনো তথ্য থাকে। বেকারত্ব বিষয়ক যেকোনো প্রতিবেদনে (যা আগামী শুক্রবার প্রকাশিত হবে) অনেক বেশি হালনাগাদকৃত তথ্য থাকে এবং এটি মার্কিন শ্রমবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে, কেবল কোনো নির্দিষ্ট দিককে নয়। তাই, JOLTS থেকে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় মার্কেটে উল্লেখযোগ্য কোনো মুভমেন্টের আশা আমরা করছি না; বরং আজ ও আগামীকাল মার্কিন নির্বাচনই ট্রেডারদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। তবে আগেই যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ইসিবির মুদ্রানীতির ব্যাপারে জরুরি কোনো প্রশ্ন নেই। সব ট্রেডারই জানেন যে, বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির প্রেক্ষাপটে ইসিবির কঠোর আর্থিক নীতিমালা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু এতে ইউরোর মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না, কারণ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোর মূল্য এখনও তলানিতেই রয়েছে। এর আগে ইউরোজোনে দুবার সুদের হার বাড়ানো হলেও তা ইউরোর কোনো উপকারে আসেনি। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসিবি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কার্যত কোনো গুরুত্বই নেই।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ প্রতিকূল রয়ে গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা চলছে না, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় ইরানে হামলা শুরু করতে পারে, কারণ তেহরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠাতেই রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানও এই অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও, ইউরোপের অনেক দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, যা ইউরোর ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারছে না। এই দুটি বিষয় মার্কিন ডলারকে সহায়তা করতে পারে; যদিও ইউরোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল, আর পাউন্ডের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি।
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে মার্কেটে অস্থিরতার মাত্রা বেশ কম থাকতে পারে, কারণ আজ তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। আর মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল বুধবার রাতে বা বৃহস্পতিবার সকালে জানা যাবে। আমরা আশা করছি যে সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ইউরোর মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখবে এবং পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও অব্যাহত থাকবে। EUR/USD কারেন্সি পেয়ার 1.1198–1.1218 রেঞ্জ থেকে এবং GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের ক্ষেত্রে 1.3380–1.3386 রেঞ্জ থেকে ট্রেড করা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।