empty
06.11.2026 12:24 PM
হোয়াইট হাউসের সামনে দুটি বিকল্প খোলা রয়েছে: হামলা অথবা সমঝোতা

অস্থির একটি সপ্তাহ পার করার পর ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও ব্যারেল প্রতি $100-এর কাছাকাছি ফিরে এসেছে। এর কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ট্রেডাররা সামরিক সংঘাত বৃদ্ধি বনাম কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাগুলোকে নতুন করে মূল্যায়ন করছেন। সোমবার থেকে এই জ্বালানি তেলের দর প্রায় $19-এর রেঞ্জে ওঠানামা করেছে। আজ দর বৃদ্ধি সত্ত্বেও, ফ্রন্ট-মান্থ কন্ট্রাক্টের দর পুরো সপ্তাহে প্রায় 15% কমেছে, যা ২০২০ সালের এপ্রিল মাসের পর থেকে সাপ্তাহিক দরপতনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঘটনা। তুলনামূলকভাবে দেখলে, সোমবার ব্রেন্টের ক্লোজিং প্রাইস ছিল $104.77, বুধবার তা দাঁড়ায় $94.62-এ, বৃহস্পতিবার সকালে ছিল প্রায় $93.6; অথচ অক্টোবর মাসের শেষে ব্রেন্টের মূল্য 118-এ পৌঁছেছিল।

This image is no longer relevant

এই দরপতনের মূল কারণ হলো, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর যুদ্ধজনিত ঝুঁকির কারণে সৃষ্ট বাড়তি মূল্য কমে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সংযম প্রদর্শনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন, ৪ নভেম্বর তিনি বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র 'লড়াই করতে প্রস্তুত', কিন্তু রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে হয়তো সামরিক হামলার যৌক্তিক ভিত্তিই মুছে যেতে পারে।

অদূর ভবিষ্যতেই সংঘাতটি অবসান হওয়ার ব্যাপারে আশা বাড়ছে, তবে গভীর মতপার্থক্য এখনও রয়ে গেছে। ইরান দাবি করছে যে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে এবং জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে এবং এ ক্ষেত্রে কাতারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। জব্দকৃত সম্পদের বিষয়টি নতুন কিছু নয়—২১ অক্টোবর কাতারের ব্যাংকগুলোতে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলারের ওপর সুদ পাওয়ার একটি ব্যবস্থা নিয়ে খবর বেরিয়েছিল—তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক দুর্বলতা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এদিকে, ফিজিক্যাল মার্কেটে দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে। হরমুজে জাহাজের ওপর ঘন ঘন হামলা সত্ত্বেও উপসাগরীয় অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে, এবং এশীয় ক্রেতাদের মুনাফা ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব তাদের জন্য তেলের দাম কমিয়েছে। উৎপাদকরা এখন বাজারে অংশীদারিত্বের জন্য প্রতিযোগিতা করছে; এতে এশীয় শোধনাগার ও আমদানিকারকরা লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে রপ্তানিকারকরা পরিমাণে নয়, বরং দামের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যের গতিপথ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও আগের উচ্চ পর্যায়ের দিকে ফিরে যায়, তবে অ্যান্ড্রু বেইলির ভাষায়, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড দ্বিতীয় দফায় সুদের হার বাড়ানোর আরও কাছাকাছি চলে আসবে। অন্যদিকে, ফেডারেল রিজার্ভ—যারা ইতোমধ্যেই ডিসেম্বরে সুদের হার পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করছে—তাদের জন্যও আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার আরেকটি কারণ তৈরি হবে। আর ঠিক এই কারণেই ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের দর $19-এর রেঞ্জজুড়ে ওঠা-নামা ফরেক্স মার্কেটে প্রভাব ফেলে; জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করে, অন্যদিকে পাউন্ড ও ইউরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

আমার ধারণা, জ্বালানি তেলের মূল্য এখন প্রকৃত সরবরাহ ঘাটতির (যা বর্তমানে কোনো সমস্যা নয়) জন্য নয়, বরং হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ওঠানামা করছে। ট্রাম্প যখন সামরিক হামলা নাকি সমঝোতা—এই দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন এবং তেহরান অগ্রহণযোগ্য সব দাবি জানাচ্ছে, তখন অ্যাক্সিওস বা এই ধরনের সংবাদমাধ্যমের যেকোনো প্রতিবেদন জ্বালানি তেলের মূল্য 3–4% পর্যন্ত বাড়িয়ে বা কমিয়ে দিতে পারে। আমার মতে, অদূর ভবিষ্যতে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য $100-এর কাছাকাছি থাকবে, তবে যেকোনো দিকেই হঠাৎ বড় ধরনের মুভমেন্টের ঝুঁকি রয়ে গেছে। একমাত্র হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কোনো কার্যকর সমঝোতাই জ্বালানি তেলের মূল্যকে দীর্ঘমেয়াদে নিম্নমুখী করতে পারে।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $92-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $95-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $98 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $89-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $87 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $84 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.