আরও দেখুন
EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের স্থানীয় নিম্নমুখী প্রবণতায় বিরাজ করছে। এই সপ্তাহে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যার ফলে এই পেয়ারের মূল্যের কয়েকশ পিপস ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী "মুভমেন্ট" হয়েছে, তবুও মার্কেট এখনও স্থির রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গতকাল, ডিসেম্বরের মাসের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি ফেড মুদ্রানীতিকে প্রভাবিত করে এমন কয়েকটি প্রতিবেদন মধ্যে একটি। পূর্বাভাসের সাথে প্রতিবেদনটির মূল ফলাফলের যথেষ্ট সঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও, মার্কেটে কার্যত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দিনেরবেলা এই পেয়ারের মূল্যের মোট অস্থিরতার পরিমাণ ছিল 43 পিপস। সুতরাং, আমরা মনে করি যে আমরা দৈনিক টাইমফ্রেমে দৃশ্যমান সাইডওয়েজ চ্যানেল 1.1400–1.1830-এর মধ্যে সম্পূর্ণ টেকনিক্যাল কারণে ইউরোর দরপতন লক্ষ্য করছি। এই চ্যানেলটি গত বছরের জুন মাসে তৈরি হতে শুরু করে। অতএব, টানা সাত মাস ধরে এই পেয়ারের মূল্য একটি ফ্ল্যাট রেঞ্জে অবস্থান করছে। খুব কম ট্রেডাররাই মনে করেন যে মৌলিক পটভূমিই গত সাত মাস ধরে এই পেয়ারের মূল্যের সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টের মূল কারণ।
মঙ্গলবার ৫ মিনিটের টাইমফ্রেমে, স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার সাথে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সম্পূর্ণভাবে সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যে মুভমেন্ট দেখা গেছে। শুধুমাত্র মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলাফলের প্রভাবে ডলারের মূল্য প্রায় ২০ পিপস বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি সেল সিগন্যাল গঠন করেছে। তবে, এই পেয়ারের দরপতন স্বল্পস্থায়ী ছিল। নতুন ট্রেডাররা সেই সিগন্যাল কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ ১০-১৫ পিপস আয় করতে পারতেন। অন্য কোনো সিগন্যালও গঠিত হয়নি।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে, যা ট্রেন্ডলাইন দ্বারা নিশ্চিত হয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য কার্যকরভাবে 1.1800–1.1830 এরিয়া অতিক্রম করতে পারেনি, যা দৈনিক টাইমফ্রেমে দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জের উপরের সীমা। তাই টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই পেয়ারের দরপতনের বিষয়টি যথার্থ এবং 1.1400 লেভেল পর্যন্ত দরপতন হতে পারে। সার্বিক মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট মার্কিন ডলারের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক রয়ে গেছে, ফলে দৈনিক টাইমফ্রেমে মার্কেটে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট প্রাধান্য বিস্তার করছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা কার্যত মৌলিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে চলেছেন।
বুধবার, নতুন ট্রেডাররা আবারও 1.1655–1.1666 এরিয়া থেকে ট্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। যদি এই পেয়ারের মূল্য এই এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে, তাহলে মূল্যের 1.1584–1.1591-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য এই জোনের উপরে থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন শেষ হয়, তাহলে মূল্যের 1.1745–1.1754-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে লং পজিশন ওপেন করা যাবে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ লেভেলসমূহ বিবেচনা করা উচিত: 1.1354–1.1363, 1.1413, 1.1455–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1550, 1.1584–1.1591, 1.1655–1.1666, 1.1745–1.1754, 1.1808, 1.1851, 1.1908, 1.1970–1.1988. আজ, ইইউতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তবে উৎপাদক মূল্য সূচক এবং খুচরা বিক্রয় সহ বেশ কয়েকটি স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন মার্কিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার সাথে ট্রেডিং চলমান রয়েছে, তাই আমরা আশা করছি না যে এই প্রতিবেদনগুলো ফলাফলের প্রভাবে মার্কেটে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।