আরও দেখুন
02.07.2026 11:12 AM২০২০ সালের পর থেকে সবচেয়ে নেতিবাচক প্রান্তিক অতিক্রম করার পর, গতকাল জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও কমতে শুরু করেছে এবং নতুন করে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সেপ্টেম্বর মাসের কন্ট্রাক্টের মূল্য ব্যারেলপ্রতি $71-এর নিচে নেমে গেছে—গত দুটি সেশনে এটির মূল্য ৩ শতাংশেরও বেশি কমেছে—অন্যদিকে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের মূল্য $68-এর কাছাকাছি ওঠানামা করছে। দুটি বিষয় তেলের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে: হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।
সরবরাহ পুনরুদ্ধারের এই ব্যাপকতা বেশ উল্লেখযোগ্য এবং এটি তেহরানের প্রধান কৌশলগত সুবিধাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ দৈনিক ১০ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে, যা জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সীমিত সক্ষমতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
গত সপ্তাহান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়নি; বরং বিকল্প পথের কল্যাণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি কার্যক্রম যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন। ট্রেডারদের মধ্যে এই ধারণা এখন সুদৃঢ় হয়েছে যে, ইরান বাস্তবে এই প্রণালীটি বন্ধ করতে সক্ষম নয়; ফলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলের মূল্য যে বাড়তি প্রভাব সৃষ্টি হয়েছিল, তা ক্রমশ কমে আসছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গ্রেডের তেলের দাম কমেছে এবং তা ছাড়কৃত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে, যা মার্কিন তেলের প্রতি চাহিদা হ্রাসেরই ইঙ্গিত দেয়।
তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাবকে এখনই পুরোপুরি উপেক্ষা করার সময় আসেনি। 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর' স্বেচ্ছায় হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব ছেড়ে দেবে—এমন সম্ভাবনা কম; কারণ বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার সক্ষমতাই তাদের একমাত্র কার্যকর হাতিয়ার। অন্য কথায়, তেহরানের কাছে এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি অর্থনৈতিক হাতিয়ার নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারও বটে; আর তাই তারা স্বেচ্ছায় এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করার জন্য কোনো তাড়া অনুভব করছে না।
জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $71.25-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $76.30-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $81.38 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $67.77-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $59.96 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $51.99 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
You have already liked this post today
*এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ আপনার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রদান করা হয়, ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রদান করা হয় না।

