আরও দেখুন
আজ স্বর্ণের মূল্য 0.3% বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় $4,154-এ অবস্থান করছে; এর মাধ্যমে জুন মাসের পর থেকে হওয়া সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতনের কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া গিয়েছে। এর আগের সপ্তাহে স্বর্ণের 3.4% দরপতন ঘটেছিল। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের পর সবচেয়ে বড় দরপতনের (6%-এর বেশি) পর আজ রুপার মূল্য 1.3% বেড়ে $61.15-এ পৌঁছেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বেড়েছে।
স্বর্ণের ওপর মূল চাপটি মূলত ফেডের নীতি-নির্ধারণী সুদের হার থেকেই আসছে। স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না, তাই ফেডারেল রিজার্ভ যখনই মুদ্রানীতি কঠোর করে (অর্থাৎ সুদের হার বাড়ায়), তখন এটি ধরে রাখার রাখার খরচ বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে পে-রোলের সংখ্যা 29,000 বেড়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, অক্টোবরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগের ৭০ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই এক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্যের বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করা যেত; অথচ স্বর্ণের মূল্য সামান্যই বেড়েছে এবং তা এখনো 100-ডে মুভিং এভারেজের নিচেই অবস্থান করছে। স্পষ্টতই, সাপ্তাহিক দরপতনের বড় অংশটি তখনই ঘটেছিল যখন ট্রেডাররা ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছিল; কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিবেদনের ফলাফল সেই চাপ কিছুটা কমিয়ে দিলেও তা মার্কেটের সামগ্রিক প্রবণতাকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারেনি।
মুদ্রাস্ফীতি-সংক্রান্ত পরিস্থিতি এখনও স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে তুলবে এবং ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি কঠোর করতে বাধ্য করবে—এমন আশঙ্কার জেরে সেপ্টেম্বরে স্বর্ণ 6%-এরও বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে। সংঘাতের বিস্তারের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে; রিয়াদ সমর্থিত ইয়েমেনি সরকার ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিদের দখলে থাকা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ঝুঁকিও অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে 3.8%-এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে জ্বালানি খাতের অবদান ছিল 18.8% (বার্ষিক ভিত্তিতে); অন্যদিকে, আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্য সূচক 3.4% ছিল। জ্বালানির দাম চড়া থাকায় সুদের হার বৃদ্ধির বিপরীতে স্বর্ণের ট্রেডিং ব্যাহত হচ্ছে এবং বড় ধরনের উত্থান বা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতাও দ্রুতই স্তিমিত হয়ে পড়ছে।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন যে, ঋণ গ্রহণের খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি মূলত বিশ্বব্যাপী প্রবণতার সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও সুদের হারের কিছু ক্ষেত্রে তা গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সোমবার ১০-বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড ছিল প্রায় 5.26%, যা ১৪ সেপ্টেম্বর ছিল 4.96%—অর্থাৎ তিন সপ্তাহের ব্যবধানে এটি ৩০ বেসিস পয়েন্টেরও বেশি বেড়েছে। রিয়েল ইয়েল্ড বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফোলিও থেকে স্বর্ণ সরিয়ে ফেলছেন; এর ফলে বন্ড-হোল্ডাররা লাভবান হচ্ছেন, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মাইনিং কোম্পানি এবং সেইসব বিনিয়োগ তহবিল যারা সরকারি ঋণপত্র থেকে সরে এসে স্বর্ণতে বিনিয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছিল।
পরবর্তী সংকেত ফেডের কাছ পাওয়া যাবে। সেপ্টেম্বর মাসের বৈঠকের কার্যবিবরণী, যেখানে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়ানো হয়েছিল, তা চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ করা হবে। ফেড কর্মকর্তারা তাদের অবস্থান নমনীয় করছেন: ফিলিপ জেফারসন গত সপ্তাহে বলেছেন যে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও সময় লাগতে পারে। ফেড গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়তে থাকলে তিনি সুদের হার বৃদ্ধিতে বিরতি নিতে প্রস্তুত থাকবেন। যদি কার্যবিবরণীতে নীতি-নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিভাজন দেখা যায়, তাহলে স্বর্ণের মূল্য বাড়বে; আর যদি তাতে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত থাকে, তাহলে স্বর্ণের উপর আবার চাপ ফিরে আসবে।
রুপার মূল্যের প্রবণতাও অনেকটা স্বর্ণের মতোই, তবে এতে ঝুঁকি বেশি। স্বর্ণের দর 3.4% কমার বিপরীতে রুপার দর 6%-এর বেশি কমেছে, যা থেকে বোঝা যায় যে দরপতনের ধাক্কা রুপার ওপর দিয়ে বেশি গেছে; সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রুপার মূল্য $63–$66-এর রেঞ্জে অবস্থান করেছে, তাই বর্তমান $61.15 লেভেলটি বাড়তি দরপতনকেই চিহ্নিত করে।
কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল সত্ত্বেও কেন স্বর্ণের মূল্য বাড়ল না? কারণ ট্রেডাররা এখন কেবল ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তের ওপরই নজর রাখে না, বরং তেলের দাম, বন্ডের ইয়েল্ড এবং হোয়াইট হাউসের গৃহীত নীতিমালার ওপরও দৃষ্টি রাখে। কর্মী নিয়োগের হার কম হলে অক্টোবরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যায় ঠিকই, কিন্তু জ্বালানির উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা বজায় রাখে এবং এর ফলে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে বজায় থাকে। আমার মতে, আগামী সেশনগুলোতে স্বর্ণের খুব সামান্য উত্থান দেখা গেলেও সামগ্রিক প্রবণতা নিম্নমুখীই থাকবে। যদি ফেডের নীতি-নির্ধারণী সংক্রান্ত বৈঠকের কার্যবিবরণীতে হকিশ বা কঠোর বা হকিশ অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং জ্বালানি তেলের দাম আবার $105-এর উপরে উঠে যায়, তবে স্বর্ণের মূল্য সম্ভবত $4,000–$4,100-এর (জুলাই মাসের সর্বনিম্ন লেভেল) দিকে ফিরে যেতে পারে। অন্যদিকে স্বর্ণের মূল্য বেড়ে $4,350-এর দিকে যাওয়ার জন্য বৈঠকের কার্যবিবরণীতে ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত, বন্ডের ইয়েল্ড হ্রাস এবং তেলের মূল্য ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়ার মতো বিষয়গুলোর সমন্বয় প্রয়োজন—যার কোনোটিই বর্তমানে বিদ্যমান নয়; তাই আমি মনে করি স্বর্ণের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।
স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,186-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,249-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,304 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,124 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,062-এ নেমে যেতে পারে, ও পরবর্তীতে সম্ভবত $4,047 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।