আরও দেখুন
সোমবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের সংখ্যা আরও কম। জার্মানি, ইউরোজোন, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর মাসের জন্য উৎপাদন খাতভিত্তিক কার্যক্রম বিষয়ক সূচক প্রকাশিত হবে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে এগুলো হবে অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় প্রাক্কলন; অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আইএসএম উৎপাদন সূচকটি হবে একমাত্র এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন। তাই, আমরা আশা করছি যে ট্রেডাররা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আইএসএম সূচকের প্রতিই প্রতিক্রিয়া দেখাবে। জার্মানিতে খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে, তবে এটি ট্রেডারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার সম্ভাবনা কম।
সোমবারের গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নর অস্টান গুলসবির বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, অন্তত এই বছরের শেষ পর্যন্ত ফেডের নীতিগত দিকটি ট্রেডারদের কাছে স্পষ্ট: ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ যে দ্বিতীয়বারের মতো মুদ্রানীতি কঠোর করবে—তা প্রায় নিশ্চিত (বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী ৯৯% সম্ভাবনা রয়েছে)—এবং এই প্রত্যাশা অনেক আগে থেকেই মার্কিন ডলারের মূল্যে প্রতিফলিত হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, তাই ফেডারেল রিজার্ভের হকিশ বা কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও বেশ প্রতিকূল রয়ে গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা চলছে না, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সেটি কবে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ইরানের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারা গেলে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় ইরানে হামলা শুরু করতে পারে। আমাদের কাছে যুদ্ধবিরতি বা যুদ্ধ অবসানের চেয়ে এই পরিস্থিতিটিই বেশি সম্ভাব্য বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানও এই অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও, ইউরোপের অনেক দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, যা ইউরোর ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারছে না। এই দুটি বিষয় মার্কিন ডলারকে সহায়তা করতে পারে; যদিও ইউরোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের দর এমনিতেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল, আর পাউন্ডের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি।
চলতি সপ্তাহের প্রথম দিনের ট্রেডিংয়ে অস্থিরতার মাত্রা বেশ কম থাকতে পারে, কারণ আইএসএম সূচক ছাড়া আজ তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। আমরা আশা করছি যে ইউরো এবং পাউন্ড মূল্যের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখবে। EUR/USD কারেন্সি পেয়ার 1.1198–1.1218 রেঞ্জ থেকে এবং GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের ক্ষেত্রে 1.3380–1.3386 রেঞ্জ থেকে ট্রেড করা যেতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।